Tuesday , April 24 2018
Breaking News
Home / এক্সক্লুসিভ / নারায়ণগঞ্জের বাংলার তাজমহল

নারায়ণগঞ্জের বাংলার তাজমহল

সম্রাট শাহজাহানের বিস্ময়কর ভালোবাসার নিদর্শন আগ্রার তাজমহল। স্ত্রী মমতাজের জন্য ভালোবাসার স্মৃতি ধরে রাখতে এর তৈরি। যা বিশ্ব আশ্চর্যের অংশ।
আগরার তাজমহল
সাদা মার্বেলপাথরের তৈরি বিশ্বের সাতটি সপ্তাশ্চর্যের একটি হল আগরার তাজমহল। এটি মুঘল স্থাপত্যের সর্বোচ্চ এবং অনন্যসাধারন নিদর্শন। যা ১৭ শতকে নির্মাণ শেষ হয়। ২০ বছর লাগে এর নির্মাণ কাজ শেষ হতে। ভারতে তাজমহল দেখতে বছরে প্রায় 8 মিলিয়ন পর্যটক আসে।

যারা ভারতের তাজমহল দেখেননি বা পর্থক্য খুঁজতে চান তারা চলে যেতে পারেন বাংলার তাজমহলে-বাংলার তাজমহল
চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, শিল্পপতি মুক্তিযোদ্ধা আহসানউল্লাহ্ মনি তার নিজ গ্রাম নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়নের পেরাব গ্রামে প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর নির্মাণ করেছেন এই তাজমহল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে এর উদ্বোধন হয়। এছাড়াও আশপাশে পর্যটনের জন্য প্রায় ৫২ বিঘা জমি সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে এই ধরনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করার কারণ ছিল বাংলাদেশের তেমন কোন বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র নেই। তিনি আরো বলেন কারণ বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি আগরাতে যেতে বা তাজমহল দেখতে যেতে পারে না। তাই তিনি তাদের কাছে তাজকে এনে দিবেন।
এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি আশা করেছিলেন যে এটি কেবলমাত্র দেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করবে না বরং বিদেশী পর্যটকদেরকেও আকর্ষণ করবে। ঢাকার কয়েক মাইল দূরে সোনারগাঁয়ে এটি অবস্থিত।

ইতালি থেকে মার্বেল, ব্রোঞ্জ, গ্রানাইট আমদানি করে এই ঐতিহাসিক আশ্চর্যের অনুলিপি নির্মাণ করা হয়। বিল্ডিংয়ের কাজটি শেষ করতে কেবল মাত্র পাঁচ বছর লেগেছিল।

এখানে দেখা যাবে চারপাশের সুন্দর আর মনোরম পরিবেশ , হাজার হাজার নাম না জানা পাখির কিচিরমিচির করা বিকেল আপনার মন ভালো করে দিবে।

বাংলার তাজমহলের নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ১৭২ টি কৃত্রিম ডায়মন্ড , ব্যবহার করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নির্মাণ কাজে ৬ জন টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ দেয়া হয়। ভারতের তাজমহলকে অনুসরণ করা হয়েছে বলে নির্মাতাকে ভারতে যেতে হয়েছে অনেকবার।
পর্যটকদের জন্য এখানে প্রবেশের আগে চমৎকার ১০ টি ঝর্ণা রয়েছে যা মুগ্ধ হয়ে দেখার মতোই।

বাংলাদেশে তাজমহলের কপি তৈরি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তারা খুশি ছিলেন না। কপিরাইট লঙ্ঘনের জন্য আহসানউল্লাহ মনির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরেরও হুমকি দিয়েছিল।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মদনপুর হয়ে, এশিয়ান হাইওয়ে থেকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার ভেতরে এটি অবস্থিত। অথবা সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর হয়ে রূপগঞ্জের বরপা দিয়েও যাওয়া যেতে পারে।

Loading...